Sunday, October 13, 2013

ফেসবুক পেজ এর লাইক বাড়াতে চান?

অনেকদিন ধরে ফেসবুক পেজ এ লাইক বাড়াবার জন্য একটা কার্যকরী উপায় খুঁজছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটা পাওয়া গেল। সহজে পয়েন্ট পাওয়া যায় আর লাইক বাড়ানো যায় যত খুশি তত।

  Like4Like.org - How it works 

যারা এই সাইট টি ব্যবহার করতে চান ছবিতে ক্লিক করে সাইটে চলে যান।

- সাইন আপ করলে পাচ্ছেন ৩০ পয়েন্ট বোনাস। 
- কাজ করার সময় বিভিন্ন ধরনের বোনাস ও আছে।


কাজ ও তেমন কিছু নয়। রিকমেন্ডেড ফেসবুক পেজ লাইক করবেন বা টুইটার ফলোয়ার হবেন। যত কাজ করবেন তত বেশি পয়েন্ট পাবেন। আর বেশি পয়েন্ট পেলে পেজেও লাইক পাবেন বেশি। এটা ১০০% কাজ করে।

রেজিস্ট্রেশনঃ
প্রথমে সাইটে গিয়ে রেজস্ট্রেশন করে নিন।


সাবমিট করার পর আপনার ইমেইল ঠিকানায় একটি কনফরমেশন লিঙ্ক সহ ইমেইল পাবেন। সেই লিঙ্ক এ ক্লিক করে একাউন্ট কনফার্ম করে নিন।

লগ ইনঃ
একাউন্ট এ লগ ইন করুন।



লগ ইন হয়ে গেলে...


আপনার নিজের পেজ এর লিঙ্ক আপলোড করাঃ
এবার দেখে নিন কিভাবে আপনার পেজ এর লিঙ্ক আপলোড করবেন। 


ক্লিক করার পর নিচের পেজটি খুলবে- 

আপনার পেজ এর ইউয়ারেল কপি করে পেস্ট করুন।


ব্যস, হয়ে গেল আপনার পেজ লিঙ্ক আপলোড। এবার আপনার ক্রেডিট থাকা শর্তে আপনার ফেসবুকপেজটি অন্যদের সামনে লাইক করার জন্য প্রদর্শিত হবে। শর্ত এই যে আপনার ক্রেডিট না থাকলে এই প্রসেস আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

কিভাবে ক্রেডিট আর লাইক বাড়াবেনঃ
প্রথমে অন্যের পেজ/ফটো/স্ট্যাটাস লাইক/ফলো/শেয়ার দিয়ে নিজের ক্রেডিট বাড়াতে হবে। 



একটি পপাপ উইন্ডো খুলবে। লাইক বাটনে ক্লিক করুন। লাইক করা হয়ে গেলে পপাপ উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন। উইন্ডোটি ম্যানুয়ালি বন্ধ না করলে ক্রেডিট জমা হবে না। 



এভাবে অন্যান্য পেজ বা সোশ্যাল সাইটের পেজ বা প্রোফাইল এর লাইক/ ফলোয়ার বাড়াতে পারেন। 
তো আর দেরি কেন? আসুন কাজ শুরু করা যাক ? :)

Wednesday, October 9, 2013

পানের শিকড় পচা রোগ

লক্ষনঃ
১) গোড়ার মাটি সংলগ্ন মধ্যপর্ব কাল রঙ ধারন করে এবং গোড়ায় সাদা সাদা তুলার আশের (মাইসেলিয়াম) মত দেখা যায়।
২) হাত দিয়ে চাপ দিলে পানের গোড়ার ছাল ছিঁড়ে পৃথক হয়ে যায় ও হাত পিচ্ছিল হয়ে যায়।

প্রতিকারঃ
১) রোগ মুক্ত লতা লাগাতে হবে।
২) রোগাক্রান্ত লতা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩) পানের বরজ পরিষ্কার রাখতে হবে।
৪) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাক নাশক মিশিয়ে লতা রোপনের আগে মাটি শোধন করতে হবে।
৫) সরিষার খৈলের সাথে ম্যানকোজেব বা কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের ছত্রাক নাশক ব্যবহার করতে হবে। 

পানের কান্ড পচা রোগ

লক্ষনঃ
১) ছত্রাক গাছের কান্ডে আক্রমন করে।
২) পাতা ঝরে পড়ে এবং ভেঙ্গে যায় বা শুকিয়ে যায়।
৩) বর্ষার সময় এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

প্রতিকারঃ
১) রোগমুক্ত লতা লাগাতে হবে।
২) পানের বরজে যাতে সরাসরি রোদ না লাগে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) রোগাক্রান্ত লতা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৪) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ম্যানকোজেব বা মেটালেক্রিল+ম্যানকোজেব মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
৫) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে ডাইফেনোকোনাজল মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

পানের পাতা পচা রোগ

লক্ষনঃ
১) পাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে পানি ভেজা দাগ দেখা যায়।
২) দাগের মাঝখানের অংশ ঝলসানো এবং শুষ্ক বলে মনে হয়।
৩) ঘন বৃষ্টিপাতের সময় এই দাগ ক্রমে বোঁটায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিকারঃ
১) রোগমুক্ত লতা বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
২) রোগাক্রান্ত পাতা ও লতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে পরে রোগ আর না ছড়ায়।
৩) ১% বোর্দমিক্সচার প্রয়োগ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
৪) ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

Tuesday, September 17, 2013

মুক্তি বাহিনী

_____মুক্তি বাহিনী____

একরাশ প্রশ্নের সমন্বয়
কখন, কেমন কি, কোথায় আশ্চর্য-বিস্ময়।
অদ্ভুত রহস্য ভীষণ দৃশ্য আকারে প্রকারে
বিশ্ব ভূলোক কাঁপিয়া উঠে প্রচণ্ড রণ হুংকারে
মহাসমুদ্রের মহাতরঙ্গ রণ খেলায় মেতেছে
মহা ধুমধামে সমারোহে অরিবধ চলিছে।
মহা উল্লাসে মহা অভিযান কি মধুর রণ বেহাগে
নাচিয়া গাহিয়া হতেছে আগুয়ান শত্রু হননের আবেগে
দিকে দিকে লোকমুখে শুনি (অশ্রুত রোম্যান্টিক) অলীক কাহিনী
আমাদের মুক্তি বাহিনী।

অপূর্ব সাধনা প্রণালী
বিবিধ সময়ে বিবিধ ঢং -সূর্য বর্ণালী।
মনের মত সজ্জায় চলেছে স্বতস্ফুর্ত প্রতিযোগিতা
উৎপীড়কের রক্তে সিনান করিবে ধরা আসবেনা আর ব্যর্থতা
কভু ভিখারির সাজ কভু মজুরের বেশ কভু শান্ত নিরীহ পথিক
কভু দৃশ্য কভু অদৃশ্য সমর ক্ষেত্রের অপরাজেয় সৈনিক।
কভু টোপর মাথায় কলসী চলে নদীর জলে- এ কোন সিপাহী?
কভু কচ্ছপ চলে মন্থর তালে "এসাপ্ট চার্জ" এর আরোহী
শত্রুরা ভ্রমে ট্রিগার চেপে ধরে জেনে মুক্তি বাহিনী
বিশ্ব জনতা শুনেছে কি আগে এমতি সত্য কাহিনী?
আমাদের মুক্তিবাহিনী।

আমাদের মুক্তি বাহিনী
অদ্রি শিখরে সাগরের জলে আকাশের নীলে চলে তার প্রদর্শনী
বাতাসের ভরে অরণ্যের মর্মরে অবাধ গতি
জর-অজড় প্রাণ নিষ্প্রাণ কিছুতেই আজ নেই স্থিতি।
বাতুলের সাজে কে যায় ওগো কে ঐ ফেরিওয়ালা
কারা গাহে বিদ্রোহী সুর "হাতুরী শাবল গাইতি চালা"
রাস্তার বাঁকে আয়ুধ সাজে কারা অপেক্ষ্মান কাদের তরে?
শ্রাবণে এল বহু পাক সৈন্যের মহা প্রয়াণের খবর এসবই বা কারা করে?
আমি ভাবি পান্ডুর ধরণীতে আসছে শান্তি বানী
আমাদের মুক্তি বাহিনী।

আমাদের মুক্তি বাহিনী
বাংলার সুখ স্বপ্নের হাতছানি।
পদ্মা মেঘনা যমুনার বীচি ভঙ্গ সুর
আবার গাহিল নব সঙ্গীত জ্বালিল দীপালি আনিল নতুন ভোর
সঞ্চারিল সবুজ প্রাণ-স্পন্দন, জুড়াল তনুমন ফুটিল মুখের ভাষা
আমরা জিগীষু আমরা জিঘাংসু আমরা শত্রু নাশা।
কোথায় পেনু মোরা অভ্রলিংহ শির কেমনে হইনু অভিবীর
কোথা থেকে আসিতেছে এত আলো এতো আশা ধরিত্রীর?
কোথা পেল আবার বৃদ্ধ বনিতা অমিয়তেজ নবতম জোয়ানী
সকল প্রশ্নের এক জবাব
আমাদের মুক্তি বাহিনী।

৮ আশ্বিন ১৩৭৮ বাংলা

মুক্তিযুদ্ধের সময় লোহারবন্দ ট্রেনিং ক্যাম্পে বসে আমার বাবার লেখা একটি কবিতা। কিছু কাগজ পত্র খুজতে খুজতে একটা পুরনো পান্ডুলিপিতে এই কবিতা টা পেয়েছি।

Wednesday, September 4, 2013

কিভাবে এলো বাংলাদেশের সংবিধান?

বাংলাদেশের প্রণীত সংবিধান জাতীর জন্য এক আশির্বাদ স্বরূপ। কেননা যেখানে ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে নিজস্ব সংবিধান রচনায় ব্যয় করেছে প্রায় ৩ বছর (১৯৪৭-৪৯)  পাকিস্তান ব্যয় করেছে প্রায় ৯ বছর (১৯৪৭-১৯৫৬) সেখানে একটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সময় লেগেছে মাত্র ৯ মাস (এপ্রিল'৭২-ডিসেম্বার'৭২)। 

বিভিন্ন মহলের ৯৮ টি সুপারিশের ভিত্তিতে, ৭৪ টি বৈঠকে ৩০০ ঘন্টা সময়ে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। জাতীয় সংসদে মুক্ত বিতর্কের মাধ্যমে ৪ নভেম্বার ১৯৭২ সালে বিপুল ভোটাধিক্যে গৃহীত হবার পর ১৬ ডিসেম্বার ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত করা যায়ঃ

১) ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১১ জানুয়ারী থেকে অস্থায়ী শাসনতান্ত্রিক আদেশ জারি করেন। এ আদেশ অনুযায়ী একটি গনপরিষদ গঠিত হয়।

২) গনপরিষদের সদস্য কারা হবেন এ ব্যাপারে সময়ের অভাব হেতু ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে ভিত্তি করে জাতীয় পরিষদের ১৬৯ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ জন নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। পরে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৪০৪ জন। এদের মধ্যে একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন রাজিয়া বানু।

৩) ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গনপরিষদের ১ম অধিবেশন হয়। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ। এ অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ''খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি'' গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় দেশের প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ ও তৎকালীন সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড.কামাল হোসেন কে।

৪) বিভিন্ন দেশের সংবিধান গবেষনা করে খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয়। ৪ নভেম্বার ১৯৭২  এ খসড়া সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। 

৫) ১৪ ডিসেম্বার ১৯৭২ গনপরিষদের সদস্যবৃন্দ খসড়া সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। তবে এতে ন্যাপ এর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন।

৬) ১৬ ডিসেম্বার ১৯৭২ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়। 

সংবিধানের সংজ্ঞা

সংবিধান হল একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলসূত্র। সংবিধান বলতে মূলত কতগুলো লিখিত বা অলিখিত মৌলিক বিধিমালা কে বোঝায় যা কোন রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করে এবং রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা ব্যবহার ও বন্টনের নীতি নির্ধারণ করে। একটি রাষ্ট্রের সংবিধান হল সেই রাষ্ট্রের দর্পণ বা প্রতিচ্ছবি যার মাধ্যমে সেই জাতির জীবন পদ্ধতি ফুটে উঠে। এটিকে বলা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বা দলিল।

বিভিন্ন আইন বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে সংবিধানের সংজ্ঞা দিয়েছেন। 
এরিস্টটলের মতে, 'A constitution is the way of life the state has chosen for itself.' 

মার্কিন সংবিধান বিশারদ ডাইসির মতে, ''সকল প্রকার নিয়ম কানুন যা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অনুশীলন বা ক্ষমতার বন্টন কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাকে সংবিধান বলা হয়।''

লেসলি লিপসন Democratic Civilization গ্রন্থে বলেছেন, ''সংবিধান হচ্ছে রাষ্টের প্রশাসনগত নিয়ম প্রনালী ও তার সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক সংবলিত একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। বলা বাহুল্য, এই প্রকল্পের মূল কাঠামো হল লিখিত সংবিধান।''

লর্ড ব্রাইস এর মতে, ''রাষ্ট্রিয় জীবন পরিচালনার জন্য আইন রীতিনীতির সমষ্টিকেই সংবিধান বলা হয়।''

সি এফ স্ট্রং বলেছেন, ''সংবিধান বলতে এমন কতিপয় নিয়ম কানুনের সমষ্টিকে বোঝায় যার দ্বারা সরকারের ক্ষমতা, শাসিতের অধিকার এবং এ দুয়ের মাঝে সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।''

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সংবিধান হল কতিপয় নিয়ম কানুন যা সরকার গঠন, দেশ পরিচালনা, সরকার ও জনগনের অবস্থান নির্ণয় এবং সর্বোপরি পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলসুত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। 

Monday, September 2, 2013

শতকরা সম্পর্কিত কিছু গানিতিক সমস্যা

১) একজন ব্যাবসায়ী একই দামে দুইটি দ্রব্য বিক্রি করে। এতে সে একটিতে ১৫% লাভ এবং অন্যটিতে ১৫% লোকসান করলে তার শতকরা কত লাভ বা লোকসান হবে?

সমাধানঃ
লক্ষ করুন, এখানে বিক্রয় মূল্য সমান এবং কোন ক্রয় মূল্য দেওয়া নেই। কিন্তু লাভ লোকসান নির্ভর করে ক্রয় মূল্যের উপর। তাই এখানে আগে ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা ধরে নিয়ে লাভ বা লোকসানে বিক্রয় মূল্য বের করে সেখান থেকে দুটি দ্রব্যের ক্রয়মূল্য সমান করা হয়। পরে ক্রয় মূল্যের উপর ভিত্তি করে মোট লাভ/লোকসান/শতকরা লাভ/লোকসান নির্ণয় করা হয়। আসুন সমস্যাটি সমাধান করা যাক।

মনে করি,
প্রতিটি দ্রব্যের ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা।

১৫% লাভে, বিক্রয়মূল্য= (১০০+১৫) বা, ১১৫ টাকা।

বিক্রয় মূল্য ১১৫ টাকা হলে ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা
    ''      ''    ১০০    ''     ''       ''   ''    ১০০x১০০ টাকা
                                                         ১১৫
                                                   বা, ৮৬.৯৬ টাকা

আবার,
১৫% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য= (১০০-১৫) বা, ৮৫ টাকা।

বিক্রয় মূল্য ৮৫ টাকা হলে ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা
    ''      ''    ১০০    ''     ''       ''   ''    ১০০x১০০ টাকা
                                                         ৮৫
                                                   বা, ১১৭.৬৫ টাকা

অতএব, 
মোট ক্রয় মূল্য = (১০০+১০০) বা, ২০০ টাকা
মোট বিক্রয় মূল্য= (১১৭.৬৫+৮৬.৯৬) বা, ২০৪.৬১ টাকা
ক্ষতি= (২০৪.৬১-২০০) বা, ৪.৬১ টাকা

এখন,
২০৪.৬১ টাকায় ক্ষতি হয় ৪.৬১ টাকা
১০০         ''         ''     ''   ৪.৫১x১০০ টাকা
                                        ২০৪.৬১
                                   বা, ২.২৫ টাকা

উত্তরঃ ২.২৫% ক্ষতি।

২) একটি শার্ট ও একটি প্যান্টের মূল্য একত্রে ৫২৫ টাকা। যদি শার্টের মূল্য ৫% এবং প্যান্টের মূল্য ১০% বৃদ্ধি পায়, তবে ঐগুলো কিনতে ৫৬৮.৭৫ টাকা লাগে। শার্ট ও প্যান্টের প্রত্যেকটির মূল্য কত?

সমাধানঃ
মনে করি, শার্টের মূল্য X টাকা
প্যান্টের মূল্য (৫২৫-X) টাকা

৫% বৃদ্ধিতে
১০০ টাকার শার্টের মূল্য হয় ১০৫ টাকা
  X     ''          ''        ''     ''   ১০৫X টাকা
                                            ১০০

১০% বৃদ্ধিতে
        ১০০ টাকার শার্টের মূল্য হয় ১১০ টাকা
(৫২৫-X)     ''          ''        ''     ''   ১১০(৫২৫-X) টাকা
                                                        ১০০

প্রশ্নমতে,
১০৫X + ১১০(৫২৫-X) = ৫৬৮.৭৫
১০০              ১০০

বা,  ১০৫X +১১০(৫২৫-X) = ৫৬৮.৭৫
                  ১০০

বা, ৫৭৭৫০ -৫X = ৫৬৮৭৫

বা, ৫X = ৮৭৫
X= ১৭৫

অতএব, শার্টের মূল্য ১৭৫ টাকা।
সুতরাং, প্যান্টের মূল্য (৫২৫-১৭৫) বা, ৩৫০ টাকা

উত্তরঃ শার্টের মূল্য ১৭৫ টাকা, প্যান্টের মূল্য ৩৫০ টাকা।

Saturday, August 31, 2013

বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ

লুপ্ত ভাষার ইতিহাস বিচার করে পন্ডিতগন তাদের কয়েকটি বিশেষ শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। প্রতিটি শ্রেণীতে রয়েছে অনেকগুলো ভাষা-বংশ বা ভাষা গোষ্ঠী। আনুমানিক ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মধ্য এশিয়ায় ইন্দো ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিল বলে পন্ডিতগন মনে করেন। তাদের বলা হয় 'আর্য' বা (Noble)।

আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকেই আর্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে। তাদের সাথে ছিল শক্তিশালী বৈদিক ভাষা আর দেবগীতিমূলক সাহিত্য। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি আত্মসাৎ করে আর্য ভাষার একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু স্থানীয় মানুষের জড়তাপূর্ণ উচ্চারণের ফলে ধীরে ধীরে এ ভাষার তৎসম শব্দের কিঞ্চিৎ পরিবর্তন হয় ফলে ভাবগাম্ভির্য হারিয়ে নতুন এক ভাষার পরিবর্তিত হয়, যার নাম হয় পালি ভাষা।

পালি এবং স্থানীয় অনার্যদের ভাষার মিশ্রনে তৈরি হয় বোধগম্য প্রাকৃত ভাষা। এই প্রাকৃত ভাষা সময়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকমুখে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে। এমনই কয়েকটি বিকৃত ভাষা হল মাগধী প্রাকৃত, মাহারাষ্ট্রি প্রাকৃত, শৌরসেনি প্রাকৃত, পৈশাচি প্রাকৃত ইত্যাদি।

 স্যার জর্জ গ্রিয়ার্সন এর মতে মাগধী প্রাকৃত থেকে পরবর্তিকালে আরো বিকৃত হয়ে অপভ্রংশ তৈরি হয় যার নাম 'অবহটঠ', বিবর্তনের মাধ্যমে এ থেকেই পরে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়।

ড মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে মাগধী প্রাকৃতের প্রাচ্যতর রূপ গৌড়িয় প্রাকৃত থেকে বাংলার উৎপত্তি।

Tuesday, July 30, 2013

সরিষার পরজীবী উদ্ভিদ

রোগের কারণঃ
Orobanche aegyptiaca

অরোবাংকি এক প্রকার সপুষ্পক পরজীবী উদ্ভিদ। সরিষার পরজীবি উদ্ভিদের মধ্যে অরোবাংকিই উল্লেখযোগ্য এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। বংশ বৃদ্ধি সরিষা গাছের উপর নির্ভরশীল। এর বীজ মাটিতেই অবস্থান করে। 

বিকল্প পোষক উদ্ভিদ সমুহঃ
সরিষা, টমেটো, আলু, তামাক, বেগুন, মরিচ, গাজর, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি। 

রোগ উপযোগী আবহাওয়াঃ
উচ্চ তাপমাত্রা ১২-১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ৭০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং উচ্চ pH যুক্ত মাটিতে অরোবাংকির প্রকোপ দেখা যায়। সাধারণত যেসব ফসলে সেচ দিতে হয়, সেসব ফসলে এটি দেখা যায়।  

রোগের লক্ষনঃ
১) আক্রান্ত সরিষা গাছের গোড়ায় পরজীবী গাছ খালি চোখেই দেখা যায়।
২) অরোবাংকির ফুল রক্তাভ রঙ এর এবং খালি চোখেই দৃশ্যমান।
৩) পরজীবী আক্রান্ত সরিষা গাছে পানির ঘাটতিজনিত লক্ষণ দেখা যায়।
৪) পাতা হলদে হয়ে যায়।
৫) গাছ দুর্বল হয়, বৃদ্ধি কমে যায় এবং খাট হয়ে যায়।
৬) ফলন কমে যায়।

লক্ষণ স্থানঃ
এ পরজীবী উদ্ভিদ সরিষা গাছের শেকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করে খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
চিত্রঃ Orobanche aegyptiaca


পরজীবী উদ্ভিদের বিস্তারঃ
মাটি, ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, সেচের পানি প্রভৃতির মাধ্যমে অরোবাংকির উৎপত্তি ও বিস্তার ঘটে। বারবার একই জমিতে সরিষা পরিবারের ফসল চাষ করলে এ পরজীবীর বিস্তার ঘটে। 


রোগ চক্রঃ
একটি মাত্র ফুল থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র (০.১৫ - ০.৫ মিমি) শত থেকে হাজার বীজ হতে পারে। ক্ষুদ্র বীজগুলো বাতাস, ছোট প্রাণী, মানুষ, যন্ত্র ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে খুব সহজেই। সুপ্তাবস্থায় মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে ১৫ বছর পর্যন্ত। বীজ মাটিতে পড়ার পর সুপ্তাবস্থায় চলে যায়। বীজ মাটিতে পড়ে  শুকনো সময়ে  প্রয়োজনীয় পরিপক্কতায় পৌছায়। 

বৃষ্টি এলে  ১-৩ সপ্তাহের মধ্যে শুকনো বীজ পানি শুষে নেয় এবং অঙ্কুরোদগমের জন্য তৈরি হয়। এই অবস্থায় বীজ অনেক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। যখন তাপমাত্রা ৭০-৮০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয় তখন পোষক উদ্ভিদের শেকড় থেকে আগত রাসায়নিক সঙ্কেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বীজ অঙ্কুরোদগম করে। যদি কোন কারণে পরজীবী উদ্ভিদের বীজ সঠিক সময়ে অঙ্কুরোদগম করতে না পারে তবে তা আবার শুকিয়ে সুপ্তাবস্থায় ফিরে যায় এবং পরবর্তি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে। 

অঙ্কুরোদগমের পর বীজ জার্ম টিউব বা শেকড় তৈরি করে যা পোষক উদ্ভিদের শেকড়ের দিকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। পোষক উদ্ভিদের শেকড়ে পৌছালে জার্ম টিউব থেকে হস্টরিয়া তৈরি হয় যা পরজীবী উদ্ভিদ কে পোষক শেকড়ের সংবহনতন্ত্রে (vascular system) প্রবেশ করতে এবং সেখানে আটকে থাকতে সহায়তা করে। সেখান থেকেই পরজীবী উদ্ভিদ  পোষক উদ্ভিদ থেকে পানি এবং পুষ্টি শুষে নেয়।

ফেব্রুয়ারী থেকে মে মাসের মধ্যে অরোবাংকি মাটির উপরে ফুল দেয়। একটি মাঝারি আকারের অরোবাংকি তে ৪০০ টির বেশি ফুল ধরতে পারে যার প্রতিটিতে ৫০০ টির বেশি বীজ হয়। 

১০-১৫ সপ্তাহের মধ্যে অরোবাংকির জীবনচক্র সম্পন্ন হয়। 

ব্যবস্থাপনাঃ
জমি সম্পুর্ণভাবে অরোবাংকি মুক্ত করতে প্রায় ১৫-২০ বছর লেগে যেতে পারে যেহেতু এর বীজ ১৫ বছর পর্যন্ত সুপ্তাবস্থায় মাটিতে থাকতে পারে।

১) ভেজা মাটিতে স্বচ্ছ পলিথিন বিছিয়ে কড়া সুর্যের আলোতে জমি ফেলে রাখলে উচ্চ তাপে বেশিরভাগ পরজীবী বীজ নষ্ট হয়ে যায় এবং বাকি বীজ পরের ঋতুর জন্য সুপ্তাবস্থায় চলে যায়। 
২)  হাতে তুলে অরোবাংকি দমন করা যায় কার্যকরভাবে, কেননা পোষক শেকড় ছাড়া এ পরজীবী কোন ভাবেই আর বাঁচতে পারে না।
৩) ফাঁদ পোষক যেমন শন, তিসি, মুগ, ভুট্টা, জোয়ার চাষ করলে পরজীবী বীজ অঙ্কুরিত হবে কিন্তু আক্রমন করতে পারবে না। আবার কিছু শস্যে অরোবাংকি আক্রমন করে। কিন্তু ফুল আসার আগেই সেগুলো সমেত ধ্বংস করে ফেললে এর প্রকোপ কমে আসে।
৪) Fusarium solani ছত্রাক ব্যবহার করা হলে এর বিষক্রিয়ায় পোষক উদ্ভিদের ক্ষতি সাধন ছাড়াই অরোবাংকি বিনষ্ট হয়।  

ছবি ও তথ্যসূত্রঃ
১) http://www.infokosh.bangladesh.gov.bd
২) http://en.wikipedia.org
৩) http://jnkvv.nic.in