Showing posts with label দাঁড়কাকের দিনলিপি. Show all posts
Showing posts with label দাঁড়কাকের দিনলিপি. Show all posts

Wednesday, May 22, 2019

১৯০৫২২

আজকাল কেমন আলসে হয়ে গেছি। কিছুই করতে ভাল লাগে না। কাজের মাঝে একটাই কাজ করি, ল্যাবে সকালে ঢুকি আর রাত করে বের হই। কিছু নামকাওয়াস্তে এক্সপেরিমেন্ট আর মাঝে মাঝে সেন্সের সাথে মিটিং। এছাড়া আর কাজের কাজ কিচ্ছু নেই। এসব আকাজ করতে করতেই কখন সকালটা গড়াতে গড়াতে দুপুর হয়ে বিকেলের পর সন্ধ্যা মিলিয়ে রাত নামে টের পাই না একদম। কতদিন যে সন্ধ্যা দেখি না হিসেব নেই। শনি রবি বার দেখা যায় কারো না কারো বাসায় দাওয়াত কাজেই আমার সন্ধ্যা দেখাও আর হয়ে ওঠে না সামাজিকতার জ্বালায়। সামাজিকতা আমার ভাল লাগে না। আমার একা থাকতেই ভাল লাগে। আজকাল মনে হয় নিজের জন্য আরো বেশি সময় দেওয়া দরকার। বুদ্ধিবৃত্তিগুলো কেমন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। অনেক কিছু চিন্তা করি কিন্তু আর সেগুলো পরে মনেই থাকে না। আগে যেমন সব লিখে লিখে রাখতাম, সেগুলো আবার লিখে লিখে রাখা শুরু করব। অন্তত একটা ঘন্টা বরাদ্দ থাকা উচিত নিজের জন্য। আত্মসমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেদিকে সময় দেওয়া উচিৎ সবার। অতিরিক্ত মনুষ্য সংযোগ মানসিক সুস্থ্যতার জন্য অহীতকর। 

সকাল বেলা যখন বের হই বাসা থেকে একটু একটু রোদ ওঠে  তখন। সেইফুর‍্যিওর পেছনের গম ক্ষেত এখন পেকে সোনালী। আকাশ পরিস্কার  থাকলে ফুকুওকার পাহাড়গুলো পরিস্কার দেখা যায়। সাগা থেকে পাহাড়ের উপর বাড়িগুলো দেখা যায় না পরিস্কার, তবে পিপড়ের মত বাড়িগুলোর ছাদ রোদের আলোয় চিক চিক করে নদীর পাড়ে জমে থাকা বালির মত। বৃষ্টি হলে সাদা চুলের টেকো বুড়োদের মাথার মত পাহাড়ের মাথা ঘিরে থাকে সাদা সাদা মেঘ। আজকাল সকাল বেলায় হীম ভাব টা এখনো পাওয়া যায়। চড়ুই পাখিগুলো ব্যস্ত থাকে গমের শীষ থেকে গম ছাড়াতে। কয়েকটা সোয়ালো পাখি অনেক উপরে উঠে বাতাসে দোল খেতে খেতে চিড়িক চিড়িক করে গান গায়। এক বুড়োর সাথে দেখা হয় প্রতিদিন সকালে। সে হনজো পার্কে তার বন্ধুদের সাথে গলফ খেলতে যায়। আমি তাকে দেখে হেসে বলি, ওহায়ো গোযাইমাস!
সেও আমাকে দেখে বলে, ওহায়ো গোযাইমাস!
একটু সামনেই দেখা হয় ইশকুল পড়ুয়া দুই কিশোরির সাথে। আমি ওদের দেখে কোন সম্ভাষণ জানাই না। বরং সাইকেলটা একটু সাবধানে রাস্তার ধার দিয়ে চালাই যাতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে। 

আজ সারাদিন ল্যাবেই কাটিয়েছি। একটু খনের জন্যও বের হইনি। এমনকি ইফতার ও ল্যাবেই করেছি চেস্টনাট সেদ্ধ দিয়ে। দাইসোতে ১০০ ইয়েনে চেস্টনাট সেদ্ধ পাওয়া যায়। আমি দুটো কিনে রেখেছিলাম সেদিন। খেতে অনেকটা কাঁঠাল বিচি সেদ্ধর মত। একই রকম গ্রথন বিন্যাস আর একটু ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধ। সেই খাওয়া আর একটু একটু করে এক্সপেরিমেন্ট চলল রাত দশটা পর্যন্ত। এখন ভাবছি রাতে একটু একা একা হাটলে কেমন হয়?

১৯০৫২২
বুধবার