Wednesday, May 22, 2019

১৯০৫২২

আজকাল কেমন আলসে হয়ে গেছি। কিছুই করতে ভাল লাগে না। কাজের মাঝে একটাই কাজ করি, ল্যাবে সকালে ঢুকি আর রাত করে বের হই। কিছু নামকাওয়াস্তে এক্সপেরিমেন্ট আর মাঝে মাঝে সেন্সের সাথে মিটিং। এছাড়া আর কাজের কাজ কিচ্ছু নেই। এসব আকাজ করতে করতেই কখন সকালটা গড়াতে গড়াতে দুপুর হয়ে বিকেলের পর সন্ধ্যা মিলিয়ে রাত নামে টের পাই না একদম। কতদিন যে সন্ধ্যা দেখি না হিসেব নেই। শনি রবি বার দেখা যায় কারো না কারো বাসায় দাওয়াত কাজেই আমার সন্ধ্যা দেখাও আর হয়ে ওঠে না সামাজিকতার জ্বালায়। সামাজিকতা আমার ভাল লাগে না। আমার একা থাকতেই ভাল লাগে। আজকাল মনে হয় নিজের জন্য আরো বেশি সময় দেওয়া দরকার। বুদ্ধিবৃত্তিগুলো কেমন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। অনেক কিছু চিন্তা করি কিন্তু আর সেগুলো পরে মনেই থাকে না। আগে যেমন সব লিখে লিখে রাখতাম, সেগুলো আবার লিখে লিখে রাখা শুরু করব। অন্তত একটা ঘন্টা বরাদ্দ থাকা উচিত নিজের জন্য। আত্মসমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেদিকে সময় দেওয়া উচিৎ সবার। অতিরিক্ত মনুষ্য সংযোগ মানসিক সুস্থ্যতার জন্য অহীতকর। 

সকাল বেলা যখন বের হই বাসা থেকে একটু একটু রোদ ওঠে  তখন। সেইফুর‍্যিওর পেছনের গম ক্ষেত এখন পেকে সোনালী। আকাশ পরিস্কার  থাকলে ফুকুওকার পাহাড়গুলো পরিস্কার দেখা যায়। সাগা থেকে পাহাড়ের উপর বাড়িগুলো দেখা যায় না পরিস্কার, তবে পিপড়ের মত বাড়িগুলোর ছাদ রোদের আলোয় চিক চিক করে নদীর পাড়ে জমে থাকা বালির মত। বৃষ্টি হলে সাদা চুলের টেকো বুড়োদের মাথার মত পাহাড়ের মাথা ঘিরে থাকে সাদা সাদা মেঘ। আজকাল সকাল বেলায় হীম ভাব টা এখনো পাওয়া যায়। চড়ুই পাখিগুলো ব্যস্ত থাকে গমের শীষ থেকে গম ছাড়াতে। কয়েকটা সোয়ালো পাখি অনেক উপরে উঠে বাতাসে দোল খেতে খেতে চিড়িক চিড়িক করে গান গায়। এক বুড়োর সাথে দেখা হয় প্রতিদিন সকালে। সে হনজো পার্কে তার বন্ধুদের সাথে গলফ খেলতে যায়। আমি তাকে দেখে হেসে বলি, ওহায়ো গোযাইমাস!
সেও আমাকে দেখে বলে, ওহায়ো গোযাইমাস!
একটু সামনেই দেখা হয় ইশকুল পড়ুয়া দুই কিশোরির সাথে। আমি ওদের দেখে কোন সম্ভাষণ জানাই না। বরং সাইকেলটা একটু সাবধানে রাস্তার ধার দিয়ে চালাই যাতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে। 

আজ সারাদিন ল্যাবেই কাটিয়েছি। একটু খনের জন্যও বের হইনি। এমনকি ইফতার ও ল্যাবেই করেছি চেস্টনাট সেদ্ধ দিয়ে। দাইসোতে ১০০ ইয়েনে চেস্টনাট সেদ্ধ পাওয়া যায়। আমি দুটো কিনে রেখেছিলাম সেদিন। খেতে অনেকটা কাঁঠাল বিচি সেদ্ধর মত। একই রকম গ্রথন বিন্যাস আর একটু ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধ। সেই খাওয়া আর একটু একটু করে এক্সপেরিমেন্ট চলল রাত দশটা পর্যন্ত। এখন ভাবছি রাতে একটু একা একা হাটলে কেমন হয়?

১৯০৫২২
বুধবার

Sunday, September 16, 2018

অন্বেষণে

শব্দে শব্দ ঠুকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয় না আর,
হয়ত সে শব্দে ধরে গেছে মরিচা,
দীর্ঘ রজনীর ওপার নক্ষত্র ঘুরে এসে
কারারুদ্ধ হয়ে গেছে এক অস্থির খাঁচায়।
স্থবির হয়ে গেছে মাংসাশী প্রানীরা, অথচ
জানে, ক্ষনেকে শুরু হবে যাত্রার।
যাযাবর ঢুড়ে নতুন তদন্তের সন্ধানে, যদি মেলে দু একটা!
শেকড়ে বেড়ে গিয়ে মৃত্তিকার গহীনে সন্ধান করে প্রাণের,
যদিও তারা কেবলি ক্ষণেকের।
অন্ধকার রাত্তিরে বাঁজখাই চিৎকারে সতত সতর্ক করে দিয়ে চলে যায় পুলিশের গাড়ি,
তবু স্ফুলিঙ্গের দেখা নেই।
হয়ত, আজ শব্দের শনিবার, শব্দেরা আজ নিয়েছে ছুটি,
তারা আজ ঘুমুচ্ছে তৃষ্ণার্ত চাতকের মত!
আহ! ঘুম!
কে জানে, সে ঘুম শেষ ঘুম কি না!!

Sunday, July 30, 2017

অদ্ভুত ভূততত্ত্ব

৩০-জুলাই-২০১৭
মিরপুর, ঢাকা


সব ভূত অদ্ভুত কিম্ভুতকিমাকার
অতিশয় অব্যয়, কতিপয় কদাকার,
অসময়ে অন্যায়, অভিনয়, অপচয়,
অন্বয়-প্রত্যয়ে মাঝরাতে ধরে ভয়।

নর্তন কুর্দনে কাপুরুষে কুপোকাত
রাম-নাম কীর্তনে দূর্ঘটে কাটে রাত,
দুর্মদ দুর্ভোগে দুর্বাক পিত্ত,
ভূতেদের ঢং দেখে যায় জ্বলে চিত্ত।

২০০৮ এর শুরুর দিকে কোন এক সন্ধায়...
-------------------------------------------

এই কবিতাটা লিখেছিলাম ২০০৮ এর দিকে। শ্রদ্ধ্যেয় সোহাগ ভাইয়ের রুমে বসে। যতদুর মনে পড়ে ক্যাম্পাসে তখন ঝামেলা চলছিল। ভিসি পরিবর্তন সহ রাজনৈতিক অনেকগুলো ইস্যুর সাথে একটা  ইস্যু ছিল, থিয়েটার, নিলীমা, ডিবেট সোসাইটি সহ সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের রুম কেড়ে নেওয়া। এমনিতেই তো আমাদের রিহার্সেলের জায়গা ছিল না তার উপর জোর করে ক্যাফেটেরিয়ার উপরের একটু খানি জায়গা কেড়ে নেওয়াতে সবাই বেশ মুষড়ে পড়েছিল। শেষে ঠিক করা হল এই সমস্যার উত্তরন করতে সব সংগঠনকে একীভূত করে সাংগঠনিক জোট করা হবে। সোহাগ ভাই তখন নিলীমার সভাপতি। কিষান থিয়েটারের সভাপতি তখন সৈকত ভাই, কৌশিকদা সেক্রেটারি, নির্যাস আর আমি কিষান থিয়েটারের দুই মহা ফাকিবাজ এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। ডিবেটের সভাপতি ছিলেন যতদূর মনে পরে উজ্জ্বল ভাই। তাকে সবচেয়ে সাংগঠনিক জোটের সভাপতি করে আমরা হই হই করতে করতে গেলাম ভিসির কাছে দাবি নিয়ে। তখন ভিসি ছিলেন শ্রদ্ধ্যেয় শাহ-ই-আলম স্যার। নতুন ভিসি হয়ে এসে এত এত ঝামেলায় পড়ে এমনিতেই তিনি তখন ব্যতিব্যস্ত। আর আমরাও তখন সবাই হই হই করতে করতে তার রুমে।

অনেক্ষন অপেক্ষা হই হই করার পর ভিসি স্যারের দেখা মিলল।  স্যার আমাদের সবাইকে তার কনফারেন্স রুমে বসালেন। তখনো প্রশাসনিক বিল্ডিং এর কাজ চলছে। ভিসি স্যারের রুম একাডেমিক বিল্ডিং এই ছিল। স্যার এসে গম্ভিরভাবে বললেন,  তোমাদের সমস্যা কী বল। সবাই এদিক ওদিক মুখ চাওয়াচাওয়ির মাঝে সোহাগভাই উঠে দাড়ালেন। সব সময়ই সোহাগ ভাই জোস বক্তা ছিলেন। নীলিমায় দেখেছি, শুনেছি তার কথা। এইবারও সোহাগ ভাই শুরু করলেন সুন্দর ভাবে। এতদিন পরে সবটুকু খেয়াল নেই সেগুলো। তবে এত টুকু এখনো মনে আছে, তিনি শুরু করেছিলেন আমাদের সমস্যা দিয়ে। কেন আমাদের চর্চা করার জায়গা নেই, কেন সংগঠন দরকার সব। অন্তত ১০ মিনিট লম্বা বক্তৃতা দেবার পর ভাই একটু হাইপার হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ করেছিলেন এভাবে- "যদি এই ভিসি আমাদের সঙ্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ সুবিধা এবং স্বাধীনতা না দিতে পারে তবে আমি ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।" আমরা জুনিয়ার রা সাথে সাথে টেবিল থাবড়ে, হট্টগোল বাধিয়ে দিয়ে তাল দিলাম। ভেতরে ভেতরে হাসতে হাসতে ফেটে পড়ছি। কারণ ভিসি স্যারের চেহারা দেখার মত ছিলনা।  যা হোক তিনি আমাদের সমাধানের আশ্বাস দেন সেদিন আর হই হই করতে না করেন।

ঘটনা সেখানেই শেষ না। সোহাগ ভাই আমাকে আর কেয়াকে ধরে নিয়ে গেলেন দৈনিক বাংলদেশ সময় পত্রিকার অফিসে। সেখানে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এ হচ্ছে নোমান, আপনাদের নতুন সাংবাদিক লাগবে বলেছিলেন না? ওকে নিয়ে নেন। আমি হতভম্ব। আর আমাকে বললেন সন্ধায় রুমে আসবা। খবর কিভাবে লেখে শিখায় দিব।

সারাদিন টো টো করে পার করে সন্ধ্যায় গেলাম সোহাগ ভাইয়ের রুমে। আমার ভুল না হলে রুম নাম্বার ছিল ৪০৭। ওইদিকে ক্যাম্পাসে ঘটে গেছিল আরো কিছু অঘটন। সেগুলো অত পরিস্কার মনে না থাকলেও এইটুকু মনে আছে যে সিন্ডিকেটের কোন একটা মিটিং এর পরে জয়েন্ট সেক্রেটারি ছাত্রদের নিয়ে কিছু একটা বাজে কথা বলেছিলেন। সেই থেকে ঝামেলার সূত্রপাত। ছাত্ররা প্রভোস্ট রুমের জানালা ভাংচুর করেছিল। এতসব ঘটনা সোহাগ ভাই বললেন, সামনে বসে লেখ। ওদিকে আমার মাথায় কিছুই নেই। কিচ্ছু আসে না তখন। মাঝে মাঝে সিগারেট ফুকার অভ্যাস তখন ছিল। সোহাগভাই ননস্মোকার। আমার অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে বললেন, কী ? ধুয়া লাগবে? যাও বারান্দায় গিয়ে ধুয়া দিয়ে দেখ কিছু বের হয় নাকি। সোহাগ ভাইএর ছোট ভাই শাকিল তখন ঢাকায়। সোহাগ ভাইয়ের সাথেই থাকে। (আমাজ ভাই তখন মনে হয় রুমে ছিলেন না। খেতে গিয়েছিলেন।) নন স্মোকার শাকিলের সাথে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সিগারেটে টান দিতে দিতে গল্প করি। কিন্তু কিছুতেই আর কিছু বের হয় না। নাহ, খবর লেখা আমাকে দিয়ে হবে না আর। সোহাগ ভাইয়ের সামনে পুরাই বেইজ্জতি। খবর বের হয়নি ঠিক তবে কবিতা বের হয়েছিল। অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ছন্দ বের হয়েছিল কিছু। সেই কবিতা লেখা দেখে সোহাগ ভাই খুব হেসেছিলেন। আর পরে যে কয়দিন দেখা হয়েছিল তার সাথে, প্রথম লাইন তার মনে থাকত আর সেটা ধরেই আমাকে ডাকতেন।

ছন্দমূল্য খুব দামি হয়ত হবে না। কিন্তু আমার কাছে আমার স্মৃতির মূল্য অসীম। ওই সময়গুলার মূল্য আমার কাছে অসীম। সোহাগ ভাউ, তোমারে মিস করি। তোমার অসাধারণ মনোশক্তির একটা অংশ তুমি আমার ভিতর সযতনে ঢুকিয়ে দিয়েছ। এটা নিয়ে আজ আমি সামনে এগোচ্ছি।

সোহাগ ভাউ, তুমি ভালো থেকো সব সময়।
তুমি তরুন থেকো সব সময়।
বার্ধক্য যেন কখনো তোমাকে স্পর্শ না করে।

Saturday, July 15, 2017

মিলিবাগ

মনে করুন আপনি একজন সফল বাগানি আপনার বাগানে আছে অনেক ধরণের গাছ তারা নিয়মিত ফুল দিচ্ছে, ফল দিচ্ছে হঠাৎ একদিন দেখলেন কোন একটি গাছের পাতার নিচে ছোট্ট একটি সাদা তুলোর মত জমে আছে ভাবলেন, হয়ত তুলোই হতে পারে কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই দেখা গেল বাগানের সব গাছের পাতার নিচে, পাতার গোড়ায় এমন সাদা সাদা তুলোর মত দিন দিন এমন তুলোর পরিমাণ বাড়তে লাগল আর ফলনের পরিমাণ কমতে লাগল গাছগুলোর পাতা এলোমেলোভাবে কুঁকড়ে গেল, ফুল দেওয়া কমে গেল, ফল দেওয়া কমে গেল। কিছুদিন বাদে দেখা গেল গাছগুলোর পাতা কালচে আবরণে ঢেকে যাচ্ছে। গাছ দূর্বল হয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। অথচ আপনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। নিশ্চিত থাকুন যে আপনার সাধের গাছ মিলিবাগ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। যদি সময়মত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে ক্ষতির আশঙ্কা সর্বাধিক।

মিলিবাগ আক্রান্ত টমেটো গাছ
(ছবি
সূত্রঃ ইন্টারনেট)
২৫০০ বছর আগে চিনা সেনাপতি সান জু তার দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর প্রথম নিয়মেই বলেছেন, “Warfare is important to a nation. It is a matter of life and death. It is the way to survival or to destruction. So study it.” আবার, অষ্টম নিয়মে বলেছেন, “Therefore, calculate and compare your levels of strength in them [Way, Heaven, Ground, General, Law] to your enemy's, and determine whether you are superior.” ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ এবং রোগ-বালাই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আগে অন্তত এই দুইটি নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। প্রথমত, বাড়তে দিলে কীট-পতংগ এবং রোগবালাই একসময় খাবারের প্রতিযোগিতা করে আমাদের সাথে পাল্লা দেবে। দ্বিতীয়ত, শত্রুর সাথে লাগতে যাওয়ার আগে শত্রু সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নিতে হবে। তাহলে আসুন আমাদের শত্রু মিলিবাগ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যাক।


মূলত মিলিবাগ আফ্রিকার উষ্ণ অংশের একটি কীট। কিভাবে এশিয়ার দিকে এর বিস্তার হয় তা পুংখানুপুংখভাবে জানা যায় না। তবে বিভিন্ন বিজ্ঞানিদের তথ্য থেকে তাদের প্রাপ্তির সময়কাল সম্পর্কে একটু ধারণা পাওয়া যেতে পারে। Paracoccus marginatus পেঁপের মিলিবাগ সর্বপ্রথম দেখা যায় মেক্সিকোতে (Williams and Granara de Willink 1992) এবং পরবর্তিতে এটি ছড়িয়ে পরে ২০১০ এর পরবর্তি সময়ে। এই মিলিবাগ প্রায় ২০ টি পরিবারের অন্তর্ভূক্ত উদ্ভিদে আক্রমন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে (Ben-Dov 2010). Phenacoccus solenopsis বা সোলেনোপসিস মিলিবাগ প্রথম দেখা যায় নিউমেক্সিকোতে ১৮৯৮ সালে (Tinsley 1898). পরে এটি ইউএসএ আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এটি এখন বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে এই জাতের মিলিবাগ সবজির ব্যাপক ক্ষতি করছে এই জাতের মিলিবাগ প্রায় ৫০ টি পরিবারের অন্তর্গত উদ্ভিদের উপর বেঁচে থাকতে পারে (Hodgson et al. 2008).২০০৬ এবং ২০০৮  সালে এই জাতের মিলিবাগের কারণে ভারত এবং পাকিস্তানে তুলা চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল (Dutt 2007) Brevennia rehi ধানের মিলিবাগকে প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হয় ১৯৭৯ সালে (Alam et al. 1979) Formicococcus robustus   মিলিবাগ প্রথম এই উপমহাদেশে দেখা যায় ১৯৯৪ সালের দিকে (Ben-Dov, 1994), Phenacoccus madeirensis বা মাদিরা মিলিবাগ প্রথম লিপিবদ্ধ হয়  ক্রান্তীয় দক্ষিন আমেরিকার মাদিরায় ১৯২৩ সালে (Green 1923). পাকিস্তানে এটিকে প্রথম পাওয়া গেছে ১৯৯৯৭ সালে এবং তাইওয়ানে ২০০৬ (Yeh et al. 2006) ইদানিং একে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দিকে কাসাভা এবং বাহারি গাছের কীট হিসাবে দেখা যাচ্ছে। এটি প্রায় ৪৪ টি পরিবারের উদ্ভিদকে আক্রমন করতে পারে। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, তাইওয়ানের সাথে আমাদের উদ্ভিদ আমদানির সম্পর্ক থাকায় ধারণা করা যায় অচিরেই মিলিবাগ দেশের কৃষক এবং বাগানিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শত্রুর পদ অধিকার করতে যাচ্ছে। এছাড়াও ইদানিং আরো একটি মিলিবাগ Drosicha stebbingi এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে যাকে জায়ান্ট মিলিবাগ বলা হচ্ছে এবং যাকে প্রথম এই উপমহাদেশে দেখা যায় ১৯০০ সালের দিকে। তবে বাংলাদেশে প্রথম দেখা যায় ২০১৩ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। এগুলো ছাড়াও বিশ্বব্যাপি Pseudococcidae পরিবারের ২৭৩ টি জেনাসের ২০১২ টি স্পিশিজের অন্যান্য মিলিবাগ আছে যেমন Maconellicoccus hirsutus – pink hibiscus mealybug, grape mealybug,   Planococcus citri – citrus mealybug, Pseudococcus viburni – obscure mealybug, Mango mealybug গ্লোবালাইজেশনের যুগে যারা সহজেই  পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে এবং আখ, আঙুর, আনারস, কফি, কাসাভা, পেঁপে, লেবু, মালবেরি, অর্কিড সহ প্রায় সকল রকম ফলদ, বনজ, ফুল এবং সবজি জাতীয় উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন করে যাচ্ছে  


পূর্নাঙ্গ স্ত্রী জায়ান্ট মিলিবাগ 
(ছবিস্বত্বঃ লেখক)
মিলিবাগগুলো আকারে ছোট, ২.৫ – ৪ মিলিমিটার হলেও এদের মধ্যে জায়ান্ট মিলিবাগ সত্যিকার অর্থেই দৈত্যাকার। প্রায় ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত এটি হতে পারে। স্ত্রী পোকার পাখা নেই বলে উড়তে পারে না এবং নিম্ফের মত দেখায়। তবে স্কেল পোকার সাথে সাদৃশ্য থাকলেও স্ত্রী মিলিবাগ হাটতে পারে। পুরুষ পোকাটি অনেকটা বোলতার মত দেখতে, কিন্তু আকারে স্ত্রী পোকার চেয়ে অনেক ছোট। জীবনের প্রথমাবস্থায় নিম্ফ থাকে পরে বোলতার মত পাখা সমৃদ্ধ আকার ধারণ করে। পুরুষ পোকার আয়ুস্কাল খুবই কম। পূর্নবয়স্ক পুরুষ পোকার মুখ থাকে না বলে সে খাদ্য গ্রহণ করে না এবং স্ত্রী পোকার সাথে মিলনের পরেই মারা যায়। এদিকে স্ত্রী মিলিবাগই হচ্ছে আমাদের প্রধান শত্রু। এরা ক্রমাগত গাছের রস শোষন করতে থাকে চুষে রস খাওয়ার উপযোগী মুখ দিয়ে। আক্রমনের প্রথমে গাছের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে পাতার গোড়ায়, কান্ডের ফাক ফোঁকরে তুলার আশ বা মোমের গুড়ার মত বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো মূলত মিলিবাগের জমাটবাধা ডিম অথবা খুব ছোট মিলিবাগ। এই তুলার আশের মত বস্তুগুলো আসলে মোমের মত এক ধরণের পদার্থ। মোমের গুড়ার ইংরেজি হল মিলি (mealy) সেই থেকে এই পোকার নাম হয়েছে মিলিবাগ আক্রমন বাড়লে অনেকগুলো কীটকে একসাথে কলোনি বানিয়ে থাকতে দেখা যায় মিলিবাগের  সংক্রমন আরো বেড়ে গেলে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায়, হলদে হয়ে যায়, পাতা ঝরে যায়, ফুল বা মুকুল ও ফল ঝরে পরে, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়মজার ব্যাপার হল এই যে Homoptera গ্রুপের আর সব স্কেল পোকার মতই মিলিবাগও মধু নিঃসরণ করে ক্রমাগত। নিঃসৃত মধুর উপর সংক্রমন হয় শুটি মোল্ড ছত্রাকের। এর ফলে গাছের পাতার উপর কালো প্রলেপ পড়ে, পাতা পর্যাপ্ত আলো পায় না, খাদ্য তৈরি ব্যহত হয়। এতে
পূর্নাঙ্গ পুরুষ জায়ান্ট মিলিবাগ
(ছবি
সূত্রঃ ইন্টারনেট)
উদ্ভিদ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরে এবং পাতা শুকিয়ে হলদে হয়ে ঝরে পরে। আরো ভয়ের ব্যাপার হল এই যে মিলিবাগ বিভিন্ন ধরণের ভাইরাসের বাহক হিসাবে কাজ করে। সর্বশেষ ধাক্কা আসে ভাইরাসের আক্রমনের মধ্য দিয়ে। আঙ্গুরের পাতা কোকড়ানো রোগ (Grapevine leaf roll disease), কলার দাগ ধরা রোগ (
Banana streak disease), আনারসের ঢলে পড়া রোগ (Pineapple wilt) সহ Caulimoviridae এবং Closteroviridae পরিবারের ভাইরাস সমূহের ছড়ানোর জন্য দায়ী করা যায় মিলিবাগকে। এতে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায়, জমাট বেঁধে যায় এবং ফলন চরমভাবে ব্যাহত হয় (
Herrbach 2015) মানুষের সংস্পর্শে এলে তেমন ক্ষতি না হলেও কিছু কিছু মিলিবাগের কারণে চুলকানি, এলার্জি, শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।


এপ্রিল মে মাসের দিকে সাধারনত মিলিবাগ ডিম পাড়ে। বেশিরভাগ মিলিবাগের প্রজাতিতে পার্থেনোজেনেসিস পদ্ধতিতে স্ত্রী পোকা পুরুষের সাহায্য ছাড়াই ডিম উৎপাদন করতে পারে। তবে কিছু কিছু প্রজাতিতে স্ত্রী এবং পুরুষের মিলনের প্রয়োজন হয়। জায়ান্ট মিলিবাগে, হিবিসকাস মিলিবাগ স্ত্রী ও পুরুষ পোকা মিলনের পর দল বেঁধে স্ত্রী পোকাগুলো হেঁটে হেঁটে মাটিতে নেমে আসে। মাটির ৫-১৫
মরিচের পাতার গোড়ায় মিলিবাগ ডিম পাড়ছে
(ছবি
সূত্রঃ ইন্টারনেট)
সেন্টিমিটার গভীরতায় প্রতিটি স্ত্রী পোকা গুচ্ছাকারে মোমের আবরণের ভেতরে প্রজাতি ভেদে ৩০০-৪০০ টি ডিম দেয়। অবশ্য কিছু প্রজাতি গাছের পাতার বোটায়, বাকলের ভাজে, কচি ডগায় প্রায় ৬০০ টির মত ডিম দেয়। আবার আনারসের মিলিবাগের প্রজাতির ডিম স্ত্রী পোকার ভেতরেই বড় হয় এবং পরে সরাসরি বাচ্চা দেয়। সাধারণত ডিম দেওয়া শেষে স্ত্রী পোকাগুলো মারা যায়। জায়ান্ট মিলিবাগের মাটির নিচের ডিমগুলো নভেম্বর মাসে ফোটা শুরু হয় এবং তা চলে প্রায় মার্চ মাস পর্যন্ত। ডিম ফুটে গোলাপি আভাযুক্ত ছোট ছোট মিলিবাগের নিম্ফ হেঁটে হেঁটে গাছের উপর উঠে পড়ে এবং কচি ডালপালা, কচি ডগা, কচি পাতা, পুষ্পমঞ্জরি ও ফলের বোটা থেকে রস চুষে খেতে শুরু করে। অন্যান্য প্রজাতির মিলিবাগের ডিম ফুটতে ৩-৯ দিন সময় লাগে এবং ৩০ দিনের মধ্যেই পূর্নাংগ রূপ নেয়। পুরুষ পোকা বেঁচে থাকে ২২-২৫ দিন পর্যন্ত। এভাবে প্রজাতিভেদে মিলিবাগ ১ বছরে ১৫ বার বংশবিস্তার করতে পারে।



পিপড়ারা মিলিবাগের নিম্ফ লালন পালন করছে
(ছবিস্বত্বঃ
 লেখক)
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল মিলিবাগের সাথে পিপড়ার সহাবস্থান। পিপড়া মিলিবাগের নিঃসৃত মিষ্টি মধু খেতে পছন্দ করে। তাই বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় যেখানে মিলিবাগ আছে সেখানে পিপড়াও আছে। প্রাচীন ডমিনিকান এম্বারে আটকে পড়া ফসিল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে মায়োসিন যুগে অর্থাৎ প্রায় ১৬ মিলিয়ন বছর আগে Acropyga জেনাসের পিপড়ার সাথে Electromyromococcus জেনাসের মিলিবাগের সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল এটিই মিলিবাগ এবং পিপড়ার সহাবস্থানের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। খেয়াল করলে দেখবেন বর্তমান পৃথিবীতেও সেই একই রকম সহাবস্থান রয়েছে। পিপড়ারা অ্যাফিড, স্কেল পোকার মতই মিলিবাগও লালন পালন করে থাকে মিষ্টি রসের জন্য। খেয়াল করলে দেখা যায় পিপড়া ছোট ছোট মিলিবাগের নিম্ফগুলোকে কচি ডগায় পৌছাতে সাহায্য করে। মাঝে মাঝে মুখে করে তুলে দ্রুত বহন করে নিয়ে যায়। নিম্ফ মাটিতে পড়ে গেলে পিপড়া তাদের আবার তুলে গাছের উপর উঠিয়ে দেয় (Johnson et al. 2001)

এতক্ষন আমরা জানলাম শত্রুর পরিচিতি। এখন জানা বাকি শত্রু আয়ত্তে আনার রনকৌশল। মিলিবাগের প্রধান ঢাল হল তার মোমের মত আবরণ। এ আবরণের কারণে সাধারণ কীটনাশক তার গায়ের ত্বক পর্যন্ত পৌছায় না সহজে। তাই কীটনাশক দেওয়ার পরেও মিলিবাগ বহাল তবিয়তেই বেঁচে থাকে। এর জন্য দরকার সমন্বিত বালাই ব্যাবস্থাপনা। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের সংস্কৃতের অর্থশাস্ত্রের প্রাচীন প্রবাদ- শত্রুর শত্রু হয় বন্ধু। তার অর্থ দাঁড়ায় শত্রুর বন্ধুও শত্রু। সহজেই বোধগম্য যে মিলিবাগ কে আয়ত্তে আনতে চাইলে তাকে দূর্বল করার মোক্ষম অস্ত্র হল তার বন্ধু পিপড়া কে হটিয়ে দেওয়া। আর তা হলেই মিলিবাগ অর্ধেক দূর্বল হয়ে পড়বে। পিপড়া দূর করার জন্য উন্নত বিশ্বে বৈদ্যুতিক বেড়া ব্যাবহার করা হয় যেখানে পিপড়া বৈদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে পারেনা। অথবা সোহাগা বিষ টোপ দিয়েও পিপড়া নির্মূল করা যায়। এই পদ্ধতিতে সোহাগা এবং চিনি / মধু ১:৩ অনুপাতে ভালোভাবে গুলিয়ে ক্ষেতের বা বাগানের বিভিন্ন স্থানে রেখে দিলে পিপড়া এসে সেটি খায় এবং ধীরে ধীরে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা পরে। যারা ছাদ বাগানের পিপড়া তাড়াতে চান তারা ১ ভাগ ভিনেগারের সাথে ২ ভাগ পানি মিশিয়ে সেই অম্লীয় দ্রবন দিয়ে ছাদ পরিস্কার করে নিতে পারেন। তাতে পিপড়ার উপদ্রব কমে আসবে।


বেগুনের মরা ডালে লুকিয়ে থাকা মিলিবাগ
(ছবিস্বত্বঃ
 মোঃ আসাদুজ্জামান টিপু)

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কিছু সহজ পদ্ধতি আবলম্বন করে মিলিবাগের আক্রমন কমিয়ে আনা যায়। আগের

বছরের সংক্রমিত ফসলের উচ্ছিষ্ট এবং আগাছা থেকে নতুন ফসলে কীট সহজেই ছড়াতে পারে। তাই, উচ্ছিষ্ট এবং আগাছা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখতে পারলে পিপড়ার এবং মিলিবাগের আশ্রয় ধ্বংস হয় এবং আক্রমন অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। মালভেসি গোত্রের গাছে সহজেই মিলিবাগ আক্রমন করে। তাই শস্যের আশেপাশের মালভেসি গোত্রের গাছ তুলে ফেলাই ভাল হবে। এক জমির ব্যাবহৃত যন্ত্রপাতি অন্য জমিতে ব্যাবহার করার আগে খুব ভালভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। চিকন ধারায় পানি স্প্রে করে মিলিবাগ কে গাছ থেকে ফেলে দেওয়া যেতে পারে। মিলিবাগ দ্রুত নড়তে পারে না বলে খুব সহজে উপরে উঠতে পারে না। বহুবর্ষজীবি গাছে আলগা হয়ে থাকা বাকলে মিলিবাগ ডিম পাড়ে এবং লুকিয়ে থাকে। এসব আলগা হয়ে থাকা বাকল তুলে ফেলে ডাইক্লোরভস ৭৬ ইসি ২মিলি + ২গ্রাম মাছের তেল ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে সে জায়গায় স্প্রে করলে ভাল কাজ দেবে। গাছের কান্ডে চওড়া করে আঠালো ফাঁদ ব্যাবহার করেও মিলিবাগ আটকানো যাবে।



উপকারী পোকা লেডিবার্ড বিটল সাইট্রাস মিলিবাগের ডিম খাচ্ছে
(ছবি
সূত্রঃ ইন্টারনেট)
আগেই বলা হয়েছে শত্রুর শত্রু হল বন্ধু। এবার আমরা খোজ করতে পারি মিলিবাগের শত্রুদের। Coccinelidae পরিবারের Cheilomenes sexmaculata, Rodolia fumida, Scymnus coccivora এবং Nephus regularis হল মিলিবাগের জাত শত্রু। এ ছাড়াও Cryptolaemus montrouzieri (অস্ট্রেলিয়ান লেডিবার্ড), Anagyrus pseudococci, Leptomastix dactylopii, Hypoaspis sp (এক ধরণের মাইট), Verticillium lecanii (ছত্রাক) এবং Beauveria bassiana (ছত্রাক) মিলিবাগের শত্রু হিসাবে পরিগনিত হয়েছে  Cheilomenes sexmaculata যাকে লাল মাথা লেডিবার্ড হিসেবে দেখা আখ্যায়িত করা হয়, ডিম পারে মিলিবাগের ডিমের গাদায় ডিম থেকে কীড়া বের হয়েই মিলিবাগের ডিম খেতে শুরু করে মাস আয়ুস্কালে ৩০০০-৫০০০ মিলিবাগ খেতে সক্ষম হেক্টরে ৫০০০ লেডিবার্ড পোকা পুরো জমিকে মিলিবাগ
লেডিবার্ডের কীড়া
(ছবি
সূত্রঃ ইন্টারনেট)
মুক্ত রাখতে পারে Verticillium lecanii (ছত্রাক) অথবা Beauveria bassiana প্রতি মিলিলিটারে x১০ টি স্পোর হয় এমন দ্রবনের গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে স্প্রে করলে ছত্রাক মিলিবাগ কে সংক্রমন করে এবং তাকে ধিরে ধিরে মেরে ফেলে



যদি কিছুতেই কিছু না হয় এবং মিলিবাগের সংখ্যা যদি এতই বেশি হয় যে আর কোনভাবেই তাদের আয়ত্তে আনা যাচ্ছে না তবে শেষ অস্ত্র হিসেবে বাকি থাকে কেমিক্যাল ব্যাবহার করা নিম্নোক্ত কেমিক্যাল গুলো ব্যাবহার করলে নিশ্চিতভাবে এই যুদ্ধে সহল হওয়া যাবে
পিপড়া মারতে-
ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি. মিলি/লিটার
% ম্যালাথিওন পাউডার২৫ কেজি/হেক্টর

মিলিবাগের উপর সরাসরি ব্যাবহার করার জন্য-
ডাইক্লোরভস ৭৬ ইসি- . মিলি/লিটার
মনোক্রটোফস ৩৬ ডব্লিউএসজি- . মিলি/লিটার
মিথাইল ডিমেটন ২৫ ইসি মিলি/লিটার
ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি. মিলি/লিটার
ইমিডাক্লোপ্রিড ২০০ এসেল- মিলি/লিটার
ম্যালাথিওন . মিলি/লিটার

এই কেমিক্যালের কোন একটি অথবা যৌথভাবে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে মনে রাখতে হবে এই কেমিক্যালগুলো খুবই বিষাক্ত এবং স্প্রে করার পর ১৫ দিন ফসল তোলা যাবে না স্প্রে করার সময় মাস্ক, গ্লাভস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা আবলম্বন করতে হবেই আরো একটি ব্যাপার মনে রাখার মত, তা হল কেমিকেলের প্রতি কীট পতংগের প্রতিরোধী ক্ষমতা যদি অল্প মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় তবে কীট মরবে না বরং পরের বংশধারায় ওই কীটনাশকের প্রতি সহনশীলতা তৈরি হবে এবং কীট মরবে না তাই অবশ্যই উপদেশকৃত মাত্রায় কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হবে এবং কিছুদিন পর পর কেমিক্যাল গ্রুপ পরিবর্তন করতে হবে

পাঠক, হয়ত মনে প্রশ্ন জাগছে, হয়ত বিরক্ত হচ্ছেন, ভাবছেন আসলেই মিলিবাগ নিয়ে খুব চিন্তার কিছু আছে কি? ভেবে দেখুন, এটি এই মুহুর্তে যদিও আমাদের প্রধান শত্রু নয়, তার পরেও বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন জমিতে এবং বাগানে বিশেষ করে ফলের বাগানগুলোতে এবং ছাদবাগানে এর উপস্থিতি বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে জায়ান্ট মিলিবাগ বছরে মাত্র একবার বংশবৃদ্ধি করলেও অন্যান্য মিলিবাগের প্রজাতি বছরে ১৫ টি বংশ বিস্তার করতে পারে অর্থাৎ একটি মিলিবাগ থেকে যদি গড়ে ৫০ টি পূর্নাংগ মিলিবাগ হতে পারে তবে বছরে সেই সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০১২০ তাহলে ভেবে দেখুন সংখ্যাটি কত বিশাল যদি এদের এখনি আয়ত্তে না আনা হয় তবে মহামারী ধারণ করতে কতদিন?


তথ্যসূত্রঃ
Alam, S., Alam, M. S. and Karim, A. N. M. 1979. Rice mealybug outbreak in Bangladesh. International Rice Research Newsletter 4:20-21.
Ben-Dov, Y. 1994. A Systematic catalogue of the mealybugs of the world (Insecta: Homoptera: Coccoidea: Pseudococcidae and Putoidae) with data on geographical distribution, host Plants, biology and economic importance. 685pp. Intercept Ltd, Andover.
Ben-Dov, Y. 2010. ScaleNet, Paracoccus marginatus. Accessed online 20 May 2017 at, http://www.sel.barc.usda.gov/catalogs/pseudoco/Paracoccusmarginatus.htm.
Dutt, U. 2007. Mealybug infestation in Punjab: Bt cotton falls flat. Accessed online 20 May 2017 at, http://www.countercurrents.org/dutt210807.htm..
Green, E. E. 1923. Observations on the Coccidae of the Madeira Islands. Bull. Entomol. Res. 14:87–99.
Herrbach, E. 2015. Scale insects as virus vectors. The Transmitters Blog. Accessed online 19 May 2017 at, https://thetransmitters.wordpress.com/2015/05/25/scale-insects-as-virus-vectors/.
Hodgson, C. J., G. Abbas, M. J. Arif, S. Saeed and H. Karar. 2008. Phenacoccus solenopsis Tinsley (Sternorrhyncha: Coccoidea: Pseudococcidae), an invasive mealybug damaging cotton in Pakistan and India, with a discussion on seasonal morphological variation. Zootaxa 1913:1–35.
Johnson, C., Agosti, D., Delabie, J. H., Dumpert, K., WILLIAMS, D. J., Tschirnhaus, M. V. and  Kaydan, M. B., Kozár, F. and Hodgson, C,. 2015. A review of the phylogeny of Palaearctic mealybugs (Hemiptera: Coccomorpha: Pseudococcidae). Arthropod systemics and phylogeny. 73(1):175-195
Maschwitz, U. 2001. Acropyga and Azteca Ants (Hymenoptera: Formicidae) with Scale Insects (Sternorrhyncha: Coccoidea): 20 Million Years of Intimate Symbiosis, American Museum Novitates, 3335:1-18
১০ Newstead, R. 1894. Scale insects in Madras. Indian Museum Notes 3:21-32.
১১ Tinsley, J. D. 1898. An ant’s nest coccid from New Mexico. Can. Entomol. 30: 47–48.
১২ Williams, D. J. and C. M. Granara de Willink. 1992. Mealybugs of Central and South America. CAB Internat., London, U.K., 635 pp.